বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে আলোচিত গান ‘ধন্য ধন্য মেরা’ দুই কোটিরও বেশি ভিউ অতিক্রম করে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিটিভির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলের পপুলার সেকশনে বর্তমানে শীর্ষস্থান দখল করে থাকা এই গানটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ইউটিউবের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভিডিওটি ২০২৩ সালের ৫ জুন আপলোড করা হয়। প্রকাশের পর থেকে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করে এটি এখন বিটিভির ডিজিটাল ইতিহাসের অন্যতম সফল কনটেন্টে পরিণত হয়েছে। গানটি পরিবেশন করেছেন তরুণ শিল্পী রোহানা ইসলাম ছোঁয়া, যার কণ্ঠে গানটি পেয়েছে এক অনন্য আবেদন।
গানটির নেপথ্য অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শিল্পী ছোঁয়া জানান, পরিবেশনের সময় তিনি কোনো ধরনের ভয় বা জড়তা অনুভব করেননি। বরং গভীর অনুভূতি ও আন্তরিকতা নিয়ে গানটি গেয়েছেন। তার এই আত্মবিশ্বাসী ও আবেগঘন পরিবেশনাই দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
গানটির কথা ও সুর করেছেন হাসান চিশতি, যার সৃজনশীলতা গানটিকে আধ্যাত্মিক ও লোকজ আবহে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে দিল্লির নিজাম উদ্দিন আউলিয়াকে কেন্দ্র করে রচিত এই গানটি সুফি ঘরানার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর আগে বিটিভির জনপ্রিয় লোকসংগীতভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘শেকড়ের গান’-এ এই গানটি পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানটির সফল উপস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অভিজ্ঞ প্রযোজক আবু তৌহিদ, যার দক্ষ পরিচালনায় গানটি পেয়েছে নান্দনিক রূপ।
বিটিভির ইউটিউব চ্যানেলের পপুলার আপলোড তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ‘ধন্য ধন্য মেরা’ গানটি এখনও দর্শকদের মাঝে সমানভাবে জনপ্রিয়। বারবার শোনার প্রবণতা এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া গানটির স্থায়ী আবেদনকে প্রমাণ করে।
দুই কোটির বেশি ভিউ শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি প্রমাণ করে যে মানসম্মত সংগীত ও সঠিক উপস্থাপনা সবসময়ই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। ডিজিটাল যুগে বিটিভির এই সাফল্য আমাদের শেকড়ভিত্তিক সংগীতের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসারই প্রতিফলন।
‘শেকড়ের গান’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লোকজ ও সুফি সংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। ছোঁয়ার কণ্ঠে গানটির আবেগময় উপস্থাপনা শ্রোতাদের মনে প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করে।
প্রযোজক আবু তৌহিদের নিপুণ পরিচালনা এবং বিটিভির কারিগরি সহায়তায় ‘ধন্য ধন্য মেরা’ এখন বাংলা সংগীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতেও এমন মানসম্মত কাজ বাংলা সংগীতকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
সব মিলিয়ে, এই গানটির সাফল্য শিল্পী রোহানা ইসলাম ছোঁয়া, সুরকার হাসান চিশতি এবং প্রযোজক আবু তৌহিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তাদের এই অর্জন প্রমাণ করে—হৃদয়ের গভীরতা থেকে গাওয়া গানই পারে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে।