গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় মাদক পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বেচাকেনা—যেখানে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য। অথচ এ বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন; তাদের নীরবতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার কয়েকটি নির্দিষ্ট স্পটে প্রকাশ্যেই চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। শুধু পৌর এলাকা নয়, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের অন্তত ৫০টিরও বেশি স্পটে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। ফলে গোটা উপজেলাজুড়ে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে মাদকদ্রব্য।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দরবস্ত ইউনিয়ন বর্তমানে মাদকের অন্যতম প্রধান স্পট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ইউনিয়নসহ পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিটের তদারকিতে রয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার শিবলী কায়েস মীর। তার দায়িত্বাধীন এলাকাতেই মাদকের এমন বিস্তার নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা—বিশেষ করে হাট-বাজার, নির্জন সড়কপথ ও কিছু নির্দিষ্ট পয়েন্টে প্রতিনিয়ত মাদকের লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলাতেও এসব কার্যক্রম চলে, আর রাত হলে তা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণরাও এই মাদকের সহজলভ্যতার কারণে জড়িয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, “মাদক ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা এতটাই প্রভাবশালী যে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযান চালালেও তা স্থায়ী কোনো প্রভাব ফেলছে না।”
তবে স্থানীয়দের একাংশ আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন—তাদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নীরবতা বা সম্ভাব্য শিথিলতার সুযোগ নিয়েই মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে, গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার শিবলী কায়েস মীরের নম্বরে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সচেতন মহলের মতে, মাদকের এমন বিস্তার সামাজিক অবক্ষয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতাসহ নানা অপরাধ বাড়ছে, যার মূল কারণ হিসেবে মাদককেই দায়ী করছেন তারা।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা চান নিয়মিত অভিযান, কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। খুব শিগগিরই উঠে আসবে মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যের চিত্র, জড়িতদের পরিচয় ও কার্যক্রমের বিস্তারিত।
— প্রতিবেদক