গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুটানীবাজার এলাকায় একটি মুদি দোকানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে সাধারণ ব্যবসা পরিচালনার আড়ালে ভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত দোকানটি দিনের বেলায় স্বাভাবিক মুদি ব্যবসা হিসেবে পরিচালিত হলেও রাতের দিকে এর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এলাকাবাসীর দাবি, নির্দিষ্ট কিছু পুরুষের নিয়মিত যাতায়াত ওই দোকানে লক্ষ্য করা যায়, যা সাধারণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বাইরে সন্দেহ তৈরি করছে।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যেসব ব্যক্তিদের ওই দোকানে নিয়মিত দেখা যায়, তাদের কয়েকজনকে ঘিরে অতীতে নারী-সম্পর্কিত বিভিন্ন সামাজিক বিতর্কের কথাও এলাকায় আলোচিত ছিল। ফলে বিষয়টি নতুন করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয়দের আরেকটি অংশের দাবি, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখন সরাসরি দোকানটি পরিচালনা করছেন এবং আগের মতোই এর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবসার আড়ালে ভিন্ন উদ্দেশ্যে স্থানটি ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এসব অভিযোগ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে, স্থানীয়রা জানান, দোকানটির পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তাদের দাবি, বিষয়টি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, যার কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে একই এলাকায় একটি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় ঘটনাটি ঘিরে নানা আলোচনা ও অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি বর্তমানে মামলাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা দায় নির্ধারণ হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, ধারাবাহিকভাবে একই এলাকায় এমন বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এক কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অভিযোগ উপেক্ষা করা হলে সামাজিক পরিবেশ আরও অবনতি হতে পারে। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।