গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আলোচিত যুবক শাকিলকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। আগে যেখানে তার বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের অভিযোগ উঠেছিল, এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। একাধিক স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে সে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার জুমারঘর চারমাথা এলাকাকে কেন্দ্র করে শাকিলের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অভিযোগ রয়েছে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকার প্রদত্ত বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধাভোগীদের টার্গেট করে একটি চক্র কাজ করত, যেখানে বিভিন্ন কৌশলে তাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি বুঝতেই পারতেন না, আবার কেউ কেউ বুঝলেও প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
এদিকে, তার বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অল্প সময়ে তার আর্থিক অবস্থার অস্বাভাবিক উন্নতি ঘটে—দামি মোটরসাইকেল, আধুনিক ডিভাইস ও আড়ম্বরপূর্ণ চলাফেরা তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এসব সম্পদের পেছনে রয়েছে অবৈধ আয়ের উৎস।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালায়। তবে অভিযানের আগেই সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে এবং তার অবস্থান শনাক্তে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “সাইবার প্রতারণা ও সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার মতো সংবেদনশীল খাতে অনিয়ম শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, এটি মানবিক অপরাধও। তাই এ ধরনের চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে—বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য কাউকে না দেওয়া, সন্দেহজনক লেনদেন এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শাকিলের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
গোবিন্দগঞ্জের জুমারঘর চারমাথা কেন্দ্রিক এই ঘটনাপ্রবাহ এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তদন্তের অগ্রগতি এবং পলাতক শাকিলকে গ্রেফতারের বিষয়টি এখন সবার নজরে।