ডেস্ক রিপোর্ট:
দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক প্রভাব, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় থেকে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা লাবলু রহমানের বিরুদ্ধে। সরকারি চাকরির আড়ালে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য, অর্থ পাচার, স্বর্ণ চোরাচালানসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের।
অভিযোগ রয়েছে, সিভিল এভিয়েশনে দায়িত্ব পালনকালে নিজের অবস্থানকে ব্যবহার করে তিনি বছরের পর বছর অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, ঠিকাদারি কাজ থেকে কমিশন গ্রহণ এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে একাধিকবার অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা হলেও রহস্যজনক কারণে সেগুলো কখনো দৃশ্যমান তদন্ত পর্যন্ত গড়ায়নি বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সূত্র বলছে, সরকারি চাকরিজীবী হয়েও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দামী গাড়ির মালিক হয়েছেন লাবলু রহমান। তার পরিবারের সদস্যদের নামেও রয়েছে বিপুল সম্পদের তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে তিনি নিজের আর্থিক সাম্রাজ্য বিস্তৃত করেছেন।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকিং কার্যক্রম ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজে কমিশন বাণিজ্য পরিচালনা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে সুবিধা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, লাবলু রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
এদিকে স্বর্ণ চোরাচালানের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি চক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবৈধ সুবিধা আদায় করা হতো। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও লাবলু রহমানের প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় বইছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও লাবলু রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি। যদি এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করছেন তারা।