স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা—পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ নাঈম গোলদার ও শফিকুল ইসলাম—কে ঘিরে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগের মধ্যেই তাদের পদোন্নতির সুপারিশ নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে পরিচালক (গ্রেড-৩) পদে পদোন্নতির জন্য একটি সুপারিশপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, যেখানে আলোচিত এই দুই কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের উদ্যোগে অধিদপ্তরের ভেতরে নীরব অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও একাধিক সূত্রের দাবি, মোহাম্মদ নাঈম গোলদারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সহকর্মীদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি নেওয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তার সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে; বিভিন্ন স্থানে জমি ও সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করলেও এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।
অন্যদিকে, শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অতীতের একটি আলোচিত ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সামনে এসেছে। ২০০৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিরাপ সেবনের ঘটনায় শিশু মৃত্যুর পর নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যেখানে ড্রাগ আইনের বিধান অনুযায়ী একাধিক নমুনা সংগ্রহের কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে প্রশাসনিক নথিপত্রেও উল্লেখ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা যায়, যদিও এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে শফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত সম্পদের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার পরিচিত মহলের কয়েকজন। নিজ এলাকায় বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পদ অর্জনের তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেলেও এসব অভিযোগেরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, এক কর্মকর্তা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস bKash-এর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছেন। প্রতিবেদকের হাতে আসা কিছু লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য ও স্ক্রিনশটে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে দাবি করা হলেও, এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অধিদপ্তরের ভেতরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে অনেক কর্মকর্তা এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। এতে করে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগগুলো আড়ালে থেকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, উত্থাপিত অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থার কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
(চলবে—পর্ব-২: নথি, আর্থিক লেনদেন ও অভিযোগের গভীরে অনুসন্ধান)