• শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
Headline
গোবিন্দগঞ্জ থানায় দালালদের রাজত্ব; মামলা থেকে গ্রেপ্তার—সবকিছুতেই টাকার খেলা! পর্ব-০১ ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে ভারতীয় গরু, জানে না প্রশাসন “অভিযোগের পাহাড়, তবুও ধরাছোঁয়ার বাইরে সবুজ—কার শক্তিতে টিকে আছে বালু বাণিজ্য?” শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক লাবলু রহমান: ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদের বিস্তর অভিযোগ দীর্ঘ শুনানি শেষে জামিনে মুক্ত যুবদল নেতা শাহীন আহমেদ রিজভী, টঙ্গীতে আনন্দের জোয়ার Chamet অ্যাপে ভিডিও কলের ফাঁদ: কোটি টাকার প্রতারণা, বিদেশে পাচার—গাইবান্ধার রনি সিন্ডিকেটের বিস্তৃত জাল গোবিন্দগঞ্জে আলোচিত ‘হ্যাকার’ শাকিল: সাইবার প্রতারণা থেকে ভাতা কেলেঙ্কারি ফুটানীবাজারে মুদি দোকানের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ, স্থানীয়দের উদ্বেগ ঔষধ প্রশাসনে পদোন্নতি বিতর্ক: অভিযোগের কেন্দ্রে দুই কর্মকর্তা (পর্ব-১) একশ’র বেশি হ্রদ যে উদ্যানে

ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে ভারতীয় গরু, জানে না প্রশাসন

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা / ৪৭ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ ঠাকুরগাঁও থেকে বিভিন্ন ট্রাকে ভারতীয় গরু পরিবহনের দৃশ্য চোখে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে এসব গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতীয় গরু প্রবেশের ঘটনায় খামারিরা উদ্বিগ্ন হলেও জানে না প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতি বছর ঠাকুরগাঁও থেকে প্রচুর পরিমাণে কোরবানীর পশু বিক্রির জন্য ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় হাটে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। এবারও ঈদ আসার প্রায় এক মাস আগে থেকেই গরু যাওয়া শুরু হয়। তবে, গত কয়েকদিন ধরে ট্রাকগুলোতে ভারতীয় গরু চোখে পড়ছে। জেলার পীরগঞ্জ ও বালিয়াডাঙ্গী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে ভারতীয় গরু পরিবহনের দৃশ্য দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন বিকেল ৪ টা থেকে ৫ টার পর ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রাকগুলোতে ভারতীয় গরু পরিবহন করা হচ্ছে। মাঝরাত পর্যন্ত ভারতীয় এসব গুরু পরিবহনের কার্যক্রম চলমান থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্তবর্তী এলাকার এক বাসিন্দা জানান, কয়েকটি চক্র ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আনছেন।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মাঝরাতে সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে গরু আনার পর দ্রুত ট্রাকে তুলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বালিয়াডাঙ্গীর রত্নাই সীমান্ত, আমজানখোর এবং ধনতলা ইউনিয়ন সংলগ্ন সীমান্ত পয়েন্ট ও রানীশংকৈল সীমান্ত ধর্মগড় এবং জগদ্দল সীমান্ত দিয়েই গরু আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এই এলাকার সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই গভীর রাতে বাংলাদেশে গরু ঢুকছে। একদিন রাত প্রায় আড়াইটার দিকে কয়েকটি গরুর পাল সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভেতরে আসতে দেখি। পরে সেগুলো ছোট ট্রাকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয় অনেকেই জানেন।”

প্রত্যক্ষদর্শীর জাহিদ হাসান বলেন, “লাহিড়ী হাটে ভারতীয় গরু বিক্রি হচ্ছে। বালিয়াডাঙ্গী সড়কে গভীর রাতে একের পর এক গরুবাহী ট্রাক যেতে দেখা যাচ্ছে। গরুগুলোর গঠন ও চিহ্ন দেখে বোঝাই যাচ্ছে এগুলো ভারতীয়।”

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলার খামারিরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিদেশি গরু ঢুকতে থাকলে দেশীয় খামারিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার খামারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সারা বছর কষ্ট করে গরু পালন করি। এখন যদি ভারতীয় গরু বাজারে ঢোকে তাহলে দেশীয় গরুর দাম পড়ে যাবে। ছোট ও মাঝারি খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম মনে করেন, যে কোনো সময়ের চাইতে চলতি বছর ঠাকুরগাঁও সহ আশপাশের অঞ্চলে কোরবানির পশুর বাজার বেশ স্থিতিশীল। বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয় পক্ষ পশুর দাম নিয়ে সন্তুষ্ট। এমন অবস্থায় ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশে দেশীয় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইজাহার আহমেদ খান জানান, ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশের বিষয়টি স্থানীয় অর্থনীতি, খামারি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের আগে এই চোরাচালান বৃদ্ধি পায়, যা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দেশি গরুর ন্যায্য দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজীর আহম্মদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, “আমরা নিয়মিত বিষয়টি তদারকি করছি। ভারত সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশের বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দায়িত্বে থাকা বিজিবি জানিয়েছিল গুরু পারাপার হচ্ছে না। আপনার কাছে থাকা ভিডিও দেখে নিশ্চিত হলাম এমন ঘটনা ঘটছে। আমি দ্রুতই সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করব এবং বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে থাকার বিষয়ে অবগত করব।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা