নিজস্ব প্রতিবেদক, গোবিন্দগঞ্জ:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ইউনিয়ন পরিষদের নাম ব্যবহার করে ‘ডিজিটাল সেবা কার্ড’ দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ‘ফটো অটো মিশন সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি কার্ড দেওয়ার নামে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নিচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পাওয়া একটি রসিদে ‘ডিজিটাল সেবা কার্ড’ বাবদ ২০০ টাকা নেওয়ার তথ্য দেখা গেছে। রসিদে প্রতিষ্ঠানের একটি নিবন্ধন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নিবন্ধন নম্বরের সত্যতা এবং প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোনো কার্যক্রমের অনুমোদন নিয়ে এ ধরনের কার্ড বিতরণ করছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা বলে তাদের কাছে কার্ডটির বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরা হচ্ছে। সরকারি সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা শুনে অনেকে টাকা দিয়ে কার্ডের জন্য নিবন্ধন করছেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা অফিসার জানিয়েছেন, কেউ যদি ভুল তথ্য দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে, সেটি অপরাধ। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমাজসেবা কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের মেমো বইয়ে উল্লেখ করা সরকারি নিবন্ধন নম্বরটিও যাচাই করা প্রয়োজন। নিবন্ধনটি প্রকৃতপক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তরের দেওয়া কি না, সেটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির দাবিকে সরকারি অনুমোদন হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এ বিষয়ে কোনো অনুমতি দিয়েছে কি না। ‘ডিজিটাল সেবা কার্ড’ বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের কোনো লিখিত অনুমোদন, রেজুলেশন বা সমঝোতা চুক্তি রয়েছে কি না—সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে আরও জানা গেছে, কার্ডটির বিনিময়ে ২০০ টাকা নেওয়া হলেও এই অর্থ কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে, কার হিসাবে জমা হচ্ছে এবং কার্ডধারীরা বিনিময়ে ঠিক কী কী সেবা পাবেন—এসব বিষয় নিয়েও পরিষ্কার তথ্য প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে সরকারি দপ্তরের নাম যুক্ত থাকলেই সেটি সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে যায় না। জনগণের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের আইনগত ভিত্তি, অনুমোদন, নির্ধারিত ফি এবং সেবার প্রকৃতি স্পষ্ট থাকা জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি দপ্তর ও ইউনিয়ন পরিষদের নাম ব্যবহার করে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া অর্থ আদায় করে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ‘ফটো অটো মিশন সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এখন মূল প্রশ্ন—‘ডিজিটাল সেবা কার্ড’ আসলে কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত, ২০০ টাকা ফি নেওয়ার বৈধতা কোথায়, রসিদে উল্লেখ করা নিবন্ধন নম্বরটি সত্য কি না এবং সমাজসেবা ও ইউনিয়ন পরিষদের নাম ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছে?
এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে—এটি বৈধ কোনো সামাজিক সেবা কার্যক্রম, নাকি সরকারি সেবার নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগের পেছনে রয়েছে অন্য কোনো