টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এক নারীকে ঘিরে মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে দুই বিয়ে ও দুই তালাকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি এখন “টক অব দ্য টাউন”-এ পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, সাত বছরের কথিত পরকীয়া সম্পর্ক, দ্রুত দ্বিতীয় বিয়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সংসারের ভাঙন—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজাবাড়ী নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা নাছিমা বেগম (৪০) প্রায় ২৩ বছর আগে একই এলাকার ওসমান গনির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দীর্ঘ সংসার জীবনে সন্তান-সন্ততিসহ একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবার গড়ে ওঠে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে নাছিমা বেগম উপজেলার নাজিরপাড়া এলাকার সোহেল মিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ওই সম্পর্ক চলার পর চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে তিনি তাঁর প্রথম স্বামী ওসমান গনিকে তালাক দেন।
এরপর গত ২ মে নাছিমা বেগম সোহেল মিয়াকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ ও পারিবারিক কলহ দেখা দেয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে বিয়ের মাত্র ৯ দিনের মাথায় সোহেল মিয়া স্ত্রী নাছিমা বেগমকে তালাক দেন।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। তালাকের প্রায় ২৫ দিন পর আবারও নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি। সোহেল মিয়ার অভিযোগ, ব্যক্তিগত কাজে রাজাবাড়ি এলাকায় গেলে তাকে জোরপূর্বক একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুনরায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি দাবি করেন, আদালতের হলফনামার মাধ্যমে ৫ লাখ ৫ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে পুনরায় কাবিন সম্পন্ন করা হয়।
অন্যদিকে স্থানীয় সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনার সত্যতা ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
আইনজীবী ও সচেতন মহলের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়; বরং এর সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইন, তালাকের বিধান, ইদ্দতকাল পালন এবং বিয়ে নিবন্ধনের বিভিন্ন আইনি প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে প্রথম তালাকের পর নির্ধারিত ইদ্দতকাল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিতে গেলে নাছিমা বেগম সাংবাদিককে ফোনে হুমকি প্রদান করেন। সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে নাছিমা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, একের পর এক বিয়ে ও দ্রুত তালাকের এই ঘটনা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং পারিবারিক অস্থিরতার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল।
মির্জাপুরজুড়ে আলোচিত এই ঘটনাকে ঘিরে এখনো চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।