নিজস্ব প্রতিবেদক, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাংলালী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আবারও দৃশ্যমান হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ব্যবহৃত পাঁচটি ড্রেজার মেশিন এবং বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়। অভিযানে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুহাম্মাদ শামীম কায়সার লিংকন নিজে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর বলে জানান।
অভিযান চলাকালে নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে স্থাপন করা ড্রেজার মেশিন, পাইপলাইন ও বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম শনাক্ত করে তা ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানের সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, অনুমোদন ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। জনস্বার্থ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালিত হবে।
সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুহাম্মাদ শামীম কায়সার লিংকন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, নদী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিগত লাভের জন্য নদী ধ্বংস করতে পারে না। জনগণের স্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের প্রতিটি বৈধ উদ্যোগে তিনি পাশে থাকবেন এবং কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলালী নদীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে অনেক স্থানে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী কৃষিজমি, বসতভিটা এবং বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তারা মনে করেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।
অভিযানকে ঘিরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে দৃশ্যমান এই অভিযান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। তবে তারা একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন, শুধু যন্ত্রপাতি ধ্বংস করেই যেন কার্যক্রম শেষ না হয়; যারা আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, নদী শুধু বালুর উৎস নয়; এটি পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নদী রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। তারা প্রশাসনের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও একই ধরনের কঠোরতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্টের যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অভিযান অব্যাহত রাখা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুহাম্মাদ শামীম কায়সার লিংকনের সরাসরি উপস্থিতিতে পরিচালিত এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের প্রত্যাশা, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলালী নদী রক্ষা পাবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের এই উদ্যোগ একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।